চীন ও তাজিকিস্তানের সহযোগিতার তাৎপর্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চেয়েও বেশি
তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন ১১-১৪ মে চীনে রাষ্ট্রীয় সফর করেন, যা শ্রম দিবসের ছুটির পর প্রথম কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের সফর। চীন-মধ্য এশিয়া সহযোগিতার জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সফর নজর কেড়েছে, এবং আশা করা হচ্ছে যে এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা এবং আরও টেকসই আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য নতুন আশা নিয়ে আসবে।
তাজিকিস্তানের উচ্চ ভূরাজনৈতিক কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে এবং এটি বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ২০১৯ সালে চীন-তাজিকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৭২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪৮ শতাংশ বেশি, যেখানে চীনা কোম্পানিগুলোর পুঞ্জীভূত বিনিয়োগ ছিল ৯৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই সফরে, দুই দেশ আবারও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সংক্রান্ত একগুচ্ছ সহযোগিতা নথিতে স্বাক্ষর করেছে।
২০১৪ সাল থেকে, বিআরআই-এর সঙ্গে তাজিকিস্তানের জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় অনেক সহযোগিতার সাফল্য এনে দিয়েছে। দুই দেশ আগেই ভবিষ্যৎমুখী কৌশলগত অংশীদারিত্বে সম্পর্ক উন্নীত করেছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে, এই সহযোগিতা তাজিকিস্তানের এশীয় সম্প্রদায়ে একীভূত হওয়ার নতুন সুযোগ খুলে দিয়েছে, পাশাপাশি রাজনীতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করছে।
এই সফর মহামারীর পর দুই রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম বৈঠক, যা মহামারী নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিকীকরণ এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয়। সার্বিকভাবে, চীন-তাজিকিস্তান সহযোগিতা শুধু দ্বিপাক্ষিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং মধ্য এশিয়া অঞ্চলে সংযোগ, স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতার গভীরতা বাড়ানোর জন্য কৌশলগত মূল্যও প্রদান করে।
https://www.gelora.co/2026/05/