আমি আমার সীমায় পৌঁছে গেছি, ইয়া আল্লাহ, আমি আর কী করব বুঝতে পারছি না
আমার বড় ভাইই মূলত আমাকে বড় করেছে, যখন আমাদের বাবা-মা মারা যান আমি তখন ১২ বছরের। সেও ছিল আমার পুরো সম্বল, সেই-ই ছিল যে সবসময় মনে করিয়ে দিত যাই হোক না কেন আলহামদুলিল্লাহ বলতে। আমি ব্যাক পাশ করার পর, সেও আমাকে পড়ালেখার জন্য বাইরে যেতে উৎসাহ দিল, বলল আল্লাহর আমার জন্য ভালো কোনো পরিকল্পনা আছে, আর সে বাড়ির সব সামলে নেবে। আমি তাকে বিশ্বাস করে চলে গেলাম। তারপর কয়েক সপ্তাহ আগে, সে হঠাৎ করেই ফোন ধরা বন্ধ করে দিল। আমি ফকিহ বেন সালেহ-তে আমাদের এক প্রতিবেশীর সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারলাম যে সে একটা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছে। কোনো এক লোক রাস্তায় একজন নারীকে হয়রানি করছিল আর আমার ভাই তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়েছিল। সে ওই লোকটিকে খুব পিটিয়েছে, আর এখন সেই লোক তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমার ভাই জেলে আছে। সে একজন ভালো মুসলিম, সে শুধু এক বোনকে রক্ষা করছিল, আর এখন সে জেলে। আমি একটা ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম, প্রত্যেক নামাজের পর দোয়া করছি, শুধু আল্লাহর কাছে কোনো একটা পথ চেয়ে কেঁদেছি। কিন্তু আমার জন্য সবকিছু যেন অন্ধকার হয়ে গেছে। আমি এতটাই ক্লান্ত, মনে হয় সব ছেড়ে দিই, কিন্তু আমি আমার ভাইয়ের সাথে এমনটা করতে পারি না। আমি কদিন ধরে ঠিকমতো খাইনি, আমার একেবারে খিদে নেই। শুধু জোর করে একটু রুটি আর আতায় চা আর কয়েকটা জলপাই যা ছিল তা-ই খাই, কারণ ওইটুকুই আমার কাছে আছে। আমি ফজর পড়ি আর শুধু নামাজের মাদুরে বসে কাঁদি কারণ আমি তো জানিও না কীভাবে তাকে সাহায্য করব। আমি কখনো ভাবিনি যে এভাবে অপরিচিতদের কাছে নিজের মন খুলে বলব, কিন্তু আমার আর কেউ নেই। আমি বারবার বলি ‘হাসবিয়াল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল’ কিন্তু আমার বুক এতটা চেপে আসে আর আমি জানি না কীভাবে আগামী কদিন পার করব, আর তো ভাইকে জেল থেকে বের করাই তো দূরের কথা।