খ্রিস্টানরা মুসলিমদের যত কিছু নিয়ে সমালোচনা করে, সেগুলোর অনেকটাই আসলে তাদের নিজেদের ধর্মগ্রন্থে আছে - ব্যাপারটা বেশ মজার না?
সালাম সবাইকে, আমি কিছু একটা ভাবছিলাম আর ভাবলাম চিন্তাগুলো শেয়ার করি। তো তোমরা জানোই, মাঝে মাঝে খ্রিস্টান ভাইয়েরা আমাদের রোজা রাখা, নামাজ পড়া, বিশেষ করে সিজদায় মাটিতে মাথা ঠেকানোর ব্যাপারে প্রশ্ন তোলে। কিন্তু শোনো, বাইবেলে যিশু নিজেই রাতে উঠে প্রার্থনা করতেন (মার্ক ১:৩৫), প্রার্থনার সময় মাটিতে মুখ লুটিয়ে পড়তেন (মথি ২৬:৩৯), লোকজনকে শূয়রের মাংস না খেতে বলেন (লেবীয় ১১:৭), এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রোজা রাখেন (মথি ৪:২), এমনকি বলছেন "তোমাদের শান্তি হোক" - যা আসলে আমাদের আসসালামু আলাইকুমের মতোই (লূক ২৪:৩৬)। আর আদিপুস্তক ১৭:৩ বলে অব্রাম ঈশ্বরের সামনে "উপুড় হয়ে পড়লেন", সংখ্যা পুস্তক ২০:৬-এ মোশি ও হারুনও তাই করলেন। আর শুনেছ কখনও তারা অভিযোগ করে যে আমরা নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করি, বা হজ্জের সময় তার চারপাশে ঘুরি? বাইবেলও দেখায় নবীরা নামাজের সময় একটা নির্দিষ্ট দিকে মুখ করতেন (দানিয়েল ৬:১০), ঈশ্বর মানুষকে একটা এলাকার চারপাশে বৃত্তাকারে ঘুরতে বলছেন (ইউশা ৬:৩-৪), আর পবিত্রতার জন্য নবীরা সাতবার করে কিছু করতেন (লেবীয় ৮:১১)। এমনকি একটা অংশ আছে যেখানে নবী যিশাইয় নিজের পাপ মাফ করানোর জন্য একটা পাথর চুমু খান (যিশাইয় ৬:৬-৭)। ও হ্যাঁ, কেউ কেউ বলে যে আল্লাহ নবী ঈসাকে এমনভাবে রক্ষা করলেন যেন মনে হলো তাকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে সেটা একটা "চালাকি।" কিন্তু ২ রাজাবলি ৭:৬-তে, আল্লাহ আক্ষরিক অর্থেই শত্রু সেনাদের কানে ভুয়া রথ আর ঘোড়ার আওয়াজ শুনিয়ে দিলেন যাতে তারা ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়, আর বিশ্বাসীদের রক্ষা করেন। আমার কাছে তো ব্যাপারগুলো বেশ একই রকম লাগে। হিজাবের কী অবস্থা? কেউ কেউ আমাদের বোনদের পর্দা করার জন্য সমালোচনা করে, কিন্তু ১ করিন্থীয় ১১:৫-৬ বলে যে একজন নারী যদি মাথা ঢাকন ছাড়া প্রার্থনা করে তাহলে সে তার মাথার অপমান করে, আর তার চুল কামিয়ে ফেলাই ভালো। যদি সে ঢাকন না নেয়, তাহলে তার চুল কেটে ফেলা উচিত, কিন্তু যেহেতু সেটাকে অপমানজনক মনে করা হয়, তাই ঢাকন নেওয়াই ভালো। আর চার স্ত্রীর ব্যাপারটা। আব্রাহাম (আদিপুস্তক ১৬:৩ ও ২৫:১), ইয়াকুব (আদিপুস্তক ২৯:২৮, ৩০:৪, ৩০:৯), দাউদ (১ শমূয়েল ২৫:৪৩ ও ২ শমূয়েল ৫:১৩), আর সুলায়মানের (১ রাজাবলি ১১:৩) একের বেশি স্ত্রী ছিল আর ওখানে এর বিরুদ্ধে কোনো পরিষ্কার কথা নেই। দেখাই যাচ্ছে, মানুষের ধারণার চেয়ে আমাদের মধ্যে অনেক বেশি মিল আছে, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্যের পথে চালিত করুন।