এই মোবারক জুমায় সহজ সওয়াব অপেক্ষা করছে
আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। আরেকটা সুন্দর জুমা চলে এলো, আলহামদুলিল্লাহ। একটু থামার দারুণ সময়, কয়েক মিনিটের জন্য হলেও, আমাদের প্রিয় নবীজির ﷺ ওপর দরুদ পাঠানোর। আমরা সবাই এর গুরুত্ব জানি। কিন্তু মাঝেমধ্যে এর পেছনের অবিশ্বাস্য উদারতাটা ভুলে যাই। নবীজি ﷺ আমাদের বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠায়, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।" (সহীহ মুসলিম) আরেক বর্ণনায় তিনি ﷺ বলেছেন: "যে আমার ওপর একবার দরুদ পাঠায়, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত পাঠান, তার দশটা গুনাহ মুছে দেন, আর তার মর্যাদা দশ ধাপ বাড়িয়ে দেন।" (সুনান আন-নাসায়ি, সহীহ) একটু ভাবেন তো। একটা দরুদ। দশটা রহমত ফেরত। দশটা গুনাহ মুছে গেল। দশটা ধাপ উপরে উঠা। সবগুলা আপনার এক মুহূর্ত সময়ের বিনিময়ে। যদিও জুমার দিনে হাজার দরুদ পাঠালে জান্নাতে নিজের জায়গা দেখতে পাওয়ার ব্যাপারে একটা দুর্বল বর্ণনা আছে, আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে জুমার দিনটা এটার জন্য স্পেশাল। নবীজি ﷺ বলেছেন এ দিনে আমাদের সালাওয়াত তাঁর কাছে পেশ করা হয়। তাই ওই বর্ণনার দিকে তাকিয়ে না থাকলেও বিষয়টা পরিষ্কার: জুমার দিনই দরুদ বাড়ানোর দিন। **আজ শুরু করার একটা সহজ পদ্ধতি** লম্বা সময় দরকার নেই। শুধু একটা লক্ষ্য ঠিক করেন-হয়তো ১০০, ৫০০, বা পারলে ১০০০। একটা ছোট্ট দরুদ বাছেন যেটাতে আপনার স্বাচ্ছন্দ্য লাগে। আমার এইটা পছন্দ: আরবি: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَآلِهِ أَلْفَ أَلْفَ مَرَّةٍ আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলিহি আলফা আলফা মাররাহ "হে আল্লাহ, আপনি রহমত বর্ষণ করুন নবী মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর এক মিলিয়ন বার।" এটাকে সারা দিনে এঁটে ফেলেন: অফিসে যাওয়ার পথে, কোনো লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে, বা ঘুমানোর আগে। আপনি অবাক হয়ে যাবেন কেমন তাড়াতাড়ি সংখ্যাগুলো জমা হয়। এই সওয়াবগুলা আমাদের হিসাবের বাইরে। কিন্তু আসলে যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে নবীজির ﷺ প্রতি মহব্বত। দরুদ পাঠানো একটা নিঃস্বার্থ আমল-আপনি নিজের জন্য কিছু চাচ্ছেন না-তারপরও আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন তার চেয়েও বেশি দেন। চেষ্টা করবেন এটাকে শুধু জুমার দিন না, এর বাইরেও নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে। কিন্তু আজকের দিনে, আসেন নিজেদের একটু বেশি উসকাই। আপনাকে ও আপনার পরিবারকে জুমা মোবারক!