খামেনির জানাজায় লাল পতাকার অর্থ যা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে
তেহরানে রবিবার (৫/৭/২০২৬) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানে কয়েক লাখ শোকাহত মানুষ জড়ো হন। শোকের প্রতীক কালো রঙের ছড়াছড়ির মাঝেই লাল পতাকা শোভাযাত্রার বিভিন্ন প্রান্তে উড়তে দেখা যায়, যা হয়ে ওঠে মূল আকর্ষণ। শিয়া ঐতিহ্যে লাল পতাকা শাহাদাত ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক, যা কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে। লাল আর কালোর মিশেল যেন দুঃখ আর প্রতিরোধের এক গল্প তৈরি করে।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি, উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, সামরিক কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন ধর্মীয় নেতারা। “আমাদের অবশ্যই জাগতে হবে” এই সরকারি স্লোগান প্রতিধ্বনিত হয়, আর খামেনির লাল-কালো মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবি প্রদর্শিত হয়। আইআরজিসি কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়, সামরিক পাহারা আর কঠোর চেকিংয়ের মাধ্যমে।
এই নিরবচ্ছিন্ন শোকযাত্রার মাঝেই জনতার কাছ থেকে ভেসে আসে উচ্চকিত আর্তনাদ। ফাতেমেহ (৫৫) নামের এক শোকাকুল নারী প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন এবং মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে সমর্থন জানান। জানাজার ধারাবাহিকতা কোম, এরপর ইরাকে (বাগদাদ, নাজাফ, কারবালা) গড়ায়, আর ৯ জুলাই মাশহাদে চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছয়, যা বিশ্বব্যাপী শিয়া সম্প্রদায়ের আন্তঃসীমান্তিক মাত্রাকে তুলে ধরে।
লাল পতাকা ওড়ানোকে দেখা হয় ইতিহাস স্মৃতি, আধ্যাত্মিক বৈধতা আর ভূরাজনৈতিক বার্তাকে সংযুক্ত করার প্রতীক হিসেবে। এটা বোঝায় যে শোক কেবল ক্ষতিতেই থেমে থাকে না, বরং তা পরিণত হয় প্রতিরোধের আখ্যানে। এই শেষকৃত্য পরিণত হয় এক বৈশ্বিক রাজনৈতিক মঞ্চে, যেখানে লাল পতাকা হয়ে ওঠে দৃষ্টিগত ও মতাদর্শগতভাবে এক শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যম।
https://mozaik.inilah.com/news