কুরআনে শ্রবণ ও দৃষ্টির অন্তর্নিহিত গভীর তাৎপর্য
আসসালামু আলাইকুম, আমি সূরা আল-বাকারার ৭ নং আয়াতে একটি সুন্দর ভাষাতাত্ত্বিক দিক নিয়ে চিন্তা করছিলাম। এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা যাদের অন্তর মোহরাঙ্কিত হয়েছে তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: 'আল্লাহ তাদের অন্তর ও তাদের কর্ণ মোহর করে দিয়েছেন এবং তাদের দৃষ্টির উপর রয়েছে পর্দা...' যেটা সত্যিই খুবই চমকপ্রদ তা হল, আল্লাহ এখানে 'শ্রবণ'-এর জন্য একবচন শব্দ (سمعهم) ব্যবহার করেছেন কিন্তু 'দৃষ্টি'-এর জন্য বহুবচন শব্দ (أبصارهم) ব্যবহার করেছেন। এর কারণ কী? আমাদের প্রাচীন আলেমগণ এই বিষয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছেন। আমার যতদূর বুঝি - আর আল্লাহই ভালো জানেন - শ্রবণ মূলত একটি একক প্রক্রিয়া। এটা হল শব্দ ও বার্তা গ্রহণের শারীরিক ক্ষমতা। কিন্তু দৃষ্টি? সেটা আরও জটিল। আমাদের চোখ দিয়ে দৃষ্টি, শারীরিক দৃষ্টি, তারপর আছে অন্তর্দৃষ্টি, সেই হৃদয়ের দৃষ্টি যা সত্যকে চিনতে পারে। অন্য একটি আয়াতে (২২:৪৬) যেখানে অন্তর অন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেখানেও কুরআন নিজেই এই দ্বৈত দৃষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করে। সুতরাং যখন কারো অন্তর মোহর করা হয়, তাদের একক শ্রবণশক্তি হিদায়াতের প্রতি বধির হয়ে যায়, এবং তাদের শারীরিক দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টি উভয়ই আল্লাহর নিদর্শন দেখতে অক্ষম হয়ে পড়ে। এখানে আরেকটি বিস্ময়কর বিষয় হল, উপমাগুলো কত নিখুঁতভাবে খাপ খায়: আল্লাহ শ্রবণের জন্য 'মোহর' (ختم) শব্দ ব্যবহার করেছেন - যেন একটি পাত্র বন্ধ করে সিলমোহর করা হচ্ছে - কারণ শ্রবণ হল একটি অভ্যন্তরীণ ইন্দ্রিয়। আর দৃষ্টির জন্য 'পর্দা' (غشاوة) শব্দ - যেন একটি জানালাকে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে - কারণ দৃষ্টি বাহ্যিক দিকে মুখ করে থাকে। এই মোহরকৃত অন্তরই হল সেই চূড়ান্ত গন্তব্য, যেখানে ঈমান পৌঁছাতে পারে না। কিছু চিন্তা যা আমাকে আল্লাহর বাণীর সূক্ষ্মতা উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে। আপনার কী মনে হয়? আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার তাওফিক দান করুন।