বিশ্বাসে ফেরার এক ভাইয়ের যাত্রা বহু বছর অবহেলা পর
আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় ভাই ও বোনেরা। আমি একজন তরুণ মুসলিম যুবক যার একদম নিজের দীন থেকে দূরে সরে যাওয়া হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে – কয়েক বছর আগে থেকেই আমি নিয়মিত নামাজ পড়া বন্ধ করে দিয়েছি, আর গত কয়েক রমজানে, অনুপযুক্ত কনটেন্টের প্রতি আসক্তির সংগ্রামের কারণে আমি বেশ কয়েক দিন ইচ্ছাকৃতভাবেই রোজা ভেঙে ফেলেছি। আমি জানি রমজানে রোজা ভাঙার কাফফারা হলো হয় ৬০ জন প্রয়োজনমাফিক লোককে খাওয়ানো না হলে টানা ৬০ দিন রোজা রাখা প্রতি ভাঙা দিনের জন্য। তার উপর আছে বছরের পর বছর ছুটে যাওয়া নামাজগুলো। সত্যি কথা বলতে, এই সবকিছুর ক্ষতিপূরণ করা যেন এক বিরাট বোঝা মনে হচ্ছে। আমার পক্ষে শত শত মানুষকে খাওয়ানোর সামর্থ্য নেই, আর বছরের পর বছরের নামাজগুলো পূরণ করাও অসম্ভব লাগছে। তাই আমার প্রশ্ন হলো: আমার মতো কারোর জন্য, যেখানে ‘সবকিছু পূরণ করো’ এই সাধারণ উত্তরটা বাস্তবিক নয়, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সামনের পথ কী? আমি যদি সত্যিই কাফফারা ম্যানেজ করতে না পারি তাহলে সেটা নিয়ে আমার করণীয় কী? আর যে সব নামাজ ছুটে গেছে, সেগুলোর জন্য কি কোনো এমন পণ্ডিতজনদের মতামত আছে যেটা একটি অসম্ভব জমে থাকা কাজের স্তুপ সামলানোর দাবি করে না? আমি জানি এটায় মনে হতে পারে যেন আমি সহজ কোনো রাস্তা খুঁজছি, কিন্তু আমি সত্যিই আটকে পড়েছি – যদি একমাত্র অপশন হয় সব কাফফারা পূরণ করা আর প্রতিটি ছুটে যাওয়া সালাত আদায় করা, তাহলে এই অপরাধবোধই হয়তো আমাকে ফিরে আসতে দেবে না, বিশেষ করে যেহেতু আমার পক্ষে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিক রাখাটাই এখন কঠিন মনে হয়। প্রসঙ্গক্রমে বলি, আমি একটি মুসলিম পরিবারে বড় হয়েছি যেখানে বাবা-মা আমাকে নামাজ পড়তে বাধ্য করতেন, কিন্তু আমি তাদের কাছ থেকে লুকিয়ে নামাজ না পড়া শুরু করি, যা আমি জানি ভুল ছিল; তারা এখন সেটা জানেন। যেকোনো পরামর্শের জন্য জাজাকাল্লাহু খাইরান।