মহররম মাসের মর্যাদা এবং ফিকহ অনুসারে আশুরার রোজার চার স্তর
মহররম মাস হিজরি সনের প্রথম মাস, যা অত্যন্ত সম্মানিত। নবী মুহাম্মদ সা. একে শাহরুল্লাহ (আল্লাহর মাস) বলে অভিহিত করেছেন। এটি চারটি হারাম মাসের অন্যতম, যাতে মুসলমানদের জন্য জুলুম করা নিষিদ্ধ এবং বেশি বেশি নেক আমলের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে সুন্নত রোজা। এই মাসে গুনাহ করা আরও বেশি ভারী গোনাহ হিসেবে গণ্য হয়, আর নেক কাজের প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
মহররম মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হল রোজা রাখা, বিশেষ করে ১০ মহররমের আশুরার রোজা। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, এই রোজা বিগত এক বছরের গোনাহ মাফ করে দেয় (মুসলিম)। ইহুদিদের প্রথা থেকে আলাদা হওয়ার জন্য ৯ মহররম তাসুয়ার রোজা রাখাও উৎসাহিত করা হয়েছে। ফিকহবিদরা আশুরার রোজার স্তরগুলো চার ভাগে ভাগ করেছেন: সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হল ৯, ১০, ১১ মহররম রোজা রাখা; দ্বিতীয় স্তর ৯ ও ১০; তৃতীয় স্তর ১০ ও ১১; আর চতুর্থ স্তর শুধু ১০ মহররম।
আশুরার দিন পালনের ক্ষেত্রে দুটি ভুল ধারণা এড়িয়ে চলা উচিত: একে শোকের দিন হিসেবে বিলাপ করা (যেমন কিছু দলের রীতি) বা একে উৎসব-উল্লাসের দিনে পরিণত করা। ইসলাম মধ্যপন্থা অবলম্বনের শিক্ষা দেয়, অর্থাৎ দিনটি ইবাদতে কাটানো যেমন রোজা, দান-সদকা, ইস্তিগফার, কোনো বাড়াবাড়ি ছাড়া।
ওয়াল্লাহু আলাম বিশ শওয়াব।
https://mozaik.inilah.com/ibad