কুরআন পোড়ানোর ঘটনার পেছনের বিড়ম্বনা: মত প্রকাশের স্বাধীনতা বনাম রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা
পশ্চিমা দেশগুলোতে কিছু ইসলামবিরোধী অ্যাক্টিভিস্টের কুরআন পোড়ানো আর অবমাননার ঘটনা শুধু প্ররোচনার চেয়েও বড় একটা সমস্যা ডেকে এনেছে। সুইডেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে আর আমেরিকার এই ঘটনাগুলো মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ইসলামবিরোধী রাজনীতি আর রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থের মধ্যে সংঘাতটা স্পষ্ট করে তুলেছে। কিছু ঘটনা পাবলিক প্লেসে, মসজিদের পাশে বা মুসলিম দেশগুলোর কূটনৈতিক অফিসের কাছাকাছি ঘটানো হয়েছে।
ডেনমার্ক এই প্ররোচনার রাজনৈতিক পরিণতির একটা জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে, ডেনমার্কের পার্লামেন্ট ফৌজদারি আইনে একটা সংশোধনী পাস করে, যাতে স্বীকৃত ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বা গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের সঙ্গে অশোভন আচরণ নিষিদ্ধ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা ৯৪টা ভোটে সমর্থিত আর ৭৭টা বিপক্ষে পাস হয়, দেশের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে, কুরআন পোড়ানোর একটা ঢেউয়ের পর যখন কূটনৈতিক আর নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়তে থাকে।
সুইডেনেও একইরকম ঘটনা ঘটেছে রাসমুস পালুদান আর সালওয়ান মোমিকার অ্যাকশনের মাধ্যমে, যা বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ, বিক্ষোভ, এমনকি বাগদাদের সুইডিশ দূতাবাসে হামলার ঘটনা পর্যন্ত গড়ায়। নেদারল্যান্ডসে, এডুইন ওয়াখেন্সভেল্ড হেগ শহরে কুরআন ছিঁড়ে ফেলে, আর আমেরিকায়, ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট জেক ল্যাং মিশিগানের ডিয়ারবোর্নে কুরআন পোড়ানোর চেষ্টা করে। এই ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা দেখায় কীভাবে ধর্মীয় প্রতীককে রাজনৈতিক সংহতি আর প্ররোচনার হাতিয়ার বানানো যায়।
মুসলমানদের জন্য এই ব্যাপারটা শুধু পবিত্র কুরআনের অবমাননা নয়, বরং মত প্রকাশের স্বাধীনতার সীমারেখা কতটা, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বটা কী, আর গণতন্ত্র কীভাবে ঘৃণাকে সামাজিক দ্বন্দ্বে রূপ নেওয়া থেকে রুখতে পারে, সেটার একটা পরীক্ষা।
https://mozaik.inilah.com/news