মুসলিমদের আজকের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো বর্ণ-ভেদের ঊর্ধ্বে ঐক্য
আমি ভাবছি কেন মুসলিমরা যতটা শক্তিশালী হতে পারতাম, ততটা নই-আর বারবারই আমার মনে আসছে যে জাতিগত বিভাজন, গায়ের রঙ বা আমরা কোন অঞ্চলের, এসব বিষয় নিয়ে কতটা বিভক্ত হয়ে পড়েছি। কেউ কেউ বলে যে এর কারণ আমরা ইউরোপীয় চিন্তাধারা অনুসরণ করা শুরু করেছি, যেখানে মানুষ একটা মহাদেশ বা নির্দিষ্ট জাতিগত ধারণা ভাগাভাগি করে গোষ্ঠীবদ্ধ হয়। কিন্তু ইসলাম আমাদের পরিচয় সম্পর্কে যা শিক্ষা দেয়, তার সাথে এটা সাংঘর্ষিক। কোনো মুসলিমকে যদি জিজ্ঞেস করো, তারা বলবে যে তাদের ঈমানই প্রথম। কিন্তু তারপরও, বাস্তবে যখন আসে, তখন আমরা দূরের অন্য মুসলিমদের চেয়ে নিজেদের এলাকার বা আমাদের মতো দেখতে মানুষদেরই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। আমার মনে হয় বহু শতাব্দী ধরে বহিরাগত প্রভাব আমাদের এই বিভাজনগুলোকে স্বাভাবিক বলে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে, যদিও আল্লাহর দৃষ্টিতে আমরা সবাই মৌলিকভাবে একই। প্যান-আরব বা প্যান-আফ্রিকান গোষ্ঠীর বদলে যদি আমরা প্যান-ইসলামিক ঐক্যের দিকে মনোযোগ দেই? কল্পনা করো, কাজাখস্তান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, সিরিয়া, মরোক্কো আর সেনেগালের মুসলিমরা যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের শেঙেন এলাকার মানুষের মতোই একে অপরের মধ্যে অবাধে চলাচল, কাজ ও বাণিজ্য করতে পারত। শুনতে হয়তো পাগলামি লাগতে পারে, কিন্তু আমার মতে আধুনিক বিশ্বে আমাদের শক্তি ফিরে পাওয়ার এটাই বাস্তবসম্মত উপায়। এই অনুভূতিটা আমাদের সবারই জানা, না? যখন তুমি কোনো মুসলিম ভাই বা বোনের সাথে দেখা করো যে তোমার চেয়ে একদম আলাদা দেখতে, তখন একটা তাৎক্ষণিক বন্ধন তৈরি হয়। কিন্তু যখন এমন কাউকে দেখো যে তোমার মতোই দেখতে কিন্তু মুসলিম নয়, সেই সংযোগটা আর থাকে না। আমি নিজেও এটা দেখেছি। তবুও দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের মধ্যেও এখনো জাতিবিদ্বেষ আর বিচ্ছিন্নতা বজায় আছে। আমি বলছি না যে আমাদের পুরনো খিলাফতগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে-সেই সময় গত হয়েছে। কিন্তু আমাদের সম্মিলিত দ্বীনের ভিত্তিতে গভীর সহযোগিতা, অবাধ চলাচল আর একটা যৌথ অর্থনীতি নিয়ে কিছু নতুন সৃষ্টি করাই আমাদের পথ হতে পারে। এটা আমাকে মুহাম্মদ (ﷺ) এর শেষ খুতবার কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে তিনি জোর দিয়েছিলেন যে প্রত্যেক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই, এবং আমাদের প্রকৃত ঐক্য আসে ইসলাম থেকে, আমাদের গোত্র বা জাতিগত পরিচয় থেকে নয়। সেই চ্যালেঞ্জই আমাদের সত্যিকারভাবে অতিক্রম করতে হবে, ইনশাআল্লাহ।