স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুবাদিত

পুরুষ ও নারীর ঈমান-বিশ্বাস নিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমার মাথায় যে বিষয়টা ঘুরছে

আসসালামু আলাইকুম সবাই। আমরা সবাই জানি আল্লাহর দৃষ্টিতে পুরুষ নারী তাদের ঈমানের ক্ষেত্রে সমান। কিন্তু সত্যি বলতে, আমার মনে হয় আমাদের অনেকের মনেই-হয়তো নিজেরাও বুঝতে পারি না-এই ধারণা ঘুরপাক খায় যে নারীরা স্বভাবতই পুরুষদের তুলনায় কম ধার্মিক। আর সত্যি বলতে, এটা কেন হয় সেটা আমি বুঝতে পারি। এর একটা বড় কারণ হলো, আমরা যেসব ভূমিকাকে সঙ্গে সঙ্গে 'ধার্মিক' হিসেবে ভাবি সেগুলোতে বেশিরভাগই পুরুষেরা আছেন। ইমাম, আলেম, অনলাইনে ইসলামিক বক্তা-তারা প্রধানত পুরুষ। আমরা জানি এমন সব নবীরাও ছিলেন পুরুষ। যখন আমরা সারাক্ষণ এই প্যাটার্ন দেখি, তখন আমাদের মস্তিষ্কে চুপিচুপি এই বার্তাটা ঢুকে যায় যে পুরুষেরা হয়তো আল্লাহর বেশি নিকটবর্তী। আর যদিও আমরা জানি আল্লাহর কোনো লিঙ্গ নেই, ইংরেজিতে আমরা সবসময় 'He' বলি। ভাষা আমাদের চিন্তাভাবনাকে গঠন করে, আর তা আল্লাহকে পুরুষত্বের সঙ্গে যুক্ত না ভাবাটা কঠিন করে দেয়, যদিও সেটা ঠিক নয়। আমার মনে হয় এটা সবখানেই দেখা যায়, কিন্তু বিশেষ করে বেশি কঠোর চিন্তাধারার মানুষদের মধ্যে। কিছু লোক নারীদের দেখে শুধু 'ফিতনা' বা প্রলোভন বলে মনে করে। আর এই সত্যটাই যে একজন নারীকে 'ধার্মিক' হিসেবে দেখানোর জন্য প্রায়ই অনেক বেশি বাধা ডিঙোতে হয়, সেটা যেন এই বিষয়টাই প্রমাণ করে। একজন বোনকে সত্যিকারের ধার্মিক হিসেবে দেখা পেতে, তাকে প্রায় নিখুঁত হতে হয় বলে মনে হয়: অন্ততপক্ষে হিজাব পরতে হবে, অতি শালীনভাবে পোশাক পরতে হবে, চুপচাপ থাকতে হবে, অনলাইনে কিছু পোস্ট করা এড়িয়ে চলতে হবে, মেকআপ বা ফ্যাশনের মতো জিনিস বাদ দিতে হবে, নামাহ্রাম পুরুষদের সঙ্গে কথা বলায় অত্যন্ত কড়া হতে হবে, বেশি বেশি নফল নামাজ পড়তে হবে, আর মূলত বেশি জায়গা না নিয়ে চলতে হবে। কিন্তু একজন ভাইয়ের জন্য? মানদণ্ডগুলো প্রায়ই কম মনে হয়। একজন পুরুষ সাধরণ পোশাক পড়তে পারে, গেম খেলতে বা খেলাধুলা করতে পারে, ছবি শেয়ার করতে পারে, তবুও তাকে খুব ধার্মিকই বিবেচনা করা হয়। থোবা পরা বা দাড়ি রাখা হলো বোনাস পয়েন্টের মতো। অন্যদিকে, একজন বোন যদি মেকআপ উপভোগ করেন, তাহলে তাকে অনেক বেশি কঠোরভাবে সমালোচনা করা হতে পারে এবং কম আধ্যাত্মিক হিসেবে দেখা হতে পারে। এটা যেন অনেক পুরুষকেই শুরু থেকেই ধার্মিক ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু অনেক বোনেরই মনে হয় তাদেরকে ক্রমাগত নিজেদের নিষ্ঠা প্রমাণ করতে হবে, যেন তারা নারী হওয়ার জন্য ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে-মানে যেন আমরা ঘাটতি নিয়ে শুরু করছি। এটা এমন একটা বিষয় যেটা নিয়ে আমাদের কথা বলা সচেতন হওয়া উচিত, ইনশাআল্লাহ।

+227

মন্তব্য

কমিউনিটির সাথে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করুন।

স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুবাদিত

পুনরায় ফিরে আসার পর আমি এটা তৎক্ষণাৎ টের পেয়েছিলাম। ভাইদের ক্ষেত্রে প্রশ্রয়-রেয়াত যেমন আছে, বোনেদের ব্যাপারে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ তেমনি জোরালো।

+17
স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুবাদিত

আপনি একথাটা খুব ভালোভাবে বলেছেন। এই দ্বিমুখীতা সত্যিই বাস্তব।

+10
স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুবাদিত

মনের ভেতরটা বেশ জোরে আঘাত পেল, "প্রতিবন্ধকতা থেকে শুরু" কথাটার জন্য। লেখাটার জন্য জাযাকাল্লাহ খাইরান।

+8
স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুবাদিত

একেবারেই সত্যি, সারা জীবনই আমি এই অনুভূতি টের পাচ্ছি। নিজের দীনকে যখন তোমার ভাইয়ের প্রমাণ করতে হয় না তখন এটি অবিরত প্রমাণ করতে হতেই আমি ক্লান্ত বোধ করি।

+6
স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুবাদিত

আর ভাষার ব্যাপারটা! সর্বদা আল্লাহর জন্য 'তিনি' বলাটা আমাদের অবচেতন মনকে গড়ে তোলে, এমনকি যখন আমরা জানি এটা সঠিক নয়।

+1
স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুবাদিত

মাশাআল্লাহ, প্রয়োজনীয় আলোচনা। আল্লাহ সব বোনদের জন্য যারা সংগ্রাম করছেন তাদের সহজ করে দিন।

+12

একটি নতুন মন্তব্য যোগ করুন

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন