মুসলিমা হিসেবে নিজেকে যথেষ্ট মনে করছি না বলে আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ
আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। আমার মন থেকে একটা কথা বের করে আনতে চাই, কারণ আমি আমার ঈমান এবং অনলাইনে যেসব ভীতিকর জিনিস দেখি তার সঙ্গে লড়াই করছি। আমার পরিবার খুব কঠোর নয়, কিন্তু আমরা ইসলামের মূল নীতিগুলো মেনে চলি। বড় হওয়ার সময়, আমার বাবা-মা আমাকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার অভ্যাস করাতে চেষ্টা করতেন, কিন্তু তা উল্টো প্রভাব ফেলেছিল। আমি একদমই মনোযোগ দিতে পারতাম না, আমার মন এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াত, অথবা আমি বাস্তবে কোনো ফোকাস ছাড়াই নামাজটা শেষ করে দিতাম। সম্প্রতি, বিশ্বে যা কিছু ঘটছে, তার প্রেক্ষিতে আমার ফিড ভিডিওতে ভরে গেছে– যেগুলো বলছে কিয়ামতের ছোট ছোট অনেক নিদর্শনই ইতিমধ্যে ঘটে গেছে, এবং দাজ্জাল ও ইয়াওমুল কিয়ামাহ কাছাকাছি। সত্যি বলতে, এটা আমাকে ভীত করে তুলছে। আমি সেই পরীক্ষাগুলোর জন্য মোটেও প্রস্তুত নই। আমি এখনো পড়াশোনা শেষ করা, আমার স্বপ্নের চাকরি পাওয়া, একজন ভালো স্বামী পাওয়া, ভ্রমণ করে আল্লাহর সৃষ্টি দেখতে যাওয়া, আমার সামনে একটা জীবন পাবার স্বপ্ন দেখি। আমার ভয়ের একটা বড় অংশ হচ্ছে নিজের গুনাহগুলোর মুখোমুখি হওয়া। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তো এত বড় একটা স্তম্ভ, কিন্তু নিয়মিত সবগুলো পড়তে কত দিন পার হয়ে গেছে। আমি সত্যিই অনুপ্রেরণা খুঁজে পেতে কঠিন সময় পার করছি, আর এটা শুধু একটা ভারী বোঝার মতো মনে হচ্ছে। আমি হয় নামাজ শুরু করি আর পরে একদম ক্লান্ত হয়ে পড়ি, অথবা শুরুই করি না এবং শেষমেশ কেঁদে ফেলি। কোনো কোনো দিন আমার ভেতরটা ব্যথা করে, একটা কণ্ঠ আমাকে ঠেলে দেয় নামাজ পড়তে, কুরআন শুনতে, আরও কিছু করতে... কিন্তু আমি নড়তেই পারি না। আমার হৃদয় দিয়ে বিশ্বাস করা সহজ মনে হয়, বাস্তবে কাজগুলো করতে যেয়ে। আমি ভয় পাই যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমার সংগ্রামগুলো দেখতে পাবেন না, ছোটবেলায় যা শুনেছি তাতে শুধু নামাজ ছাড়ার জন্য আমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আমি চাই, সত্যিই চাই সেই নেককার মুসলিমা হতে যিনি সময়মতো নামাজ পড়েন এবং কুরআন মুখস্থ জানেন... কিন্তু এটা এত কঠিন। আমার মনে হচ্ছে একটা বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে, যেন সব শেষ হয়ে গেছে এবং শুধু পড়ে আছে ভারী অপরাধবোধ ও লজ্জা– সবচেয়ে মৌলিক জিনিসে ব্যর্থ হওয়ার জন্য। যদিও আমাদের বলা হয় আল্লাহ তো আর-রহমান ও আর-রহীম, তবুও আমি ভয় পাই তিনি আমার নামাজ ছাড়ার সেই সমস্ত বছরগুলো, বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় নামাজ না পড়া, বা ছোটবেলায় ইসলামিক স্কুলের পাঠ উপেক্ষা করা– এসব ক্ষমা করবেন না। এক বছরেরও বেশি আগে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। একজন পাদ্রি একটা ট্রেন স্টেশনে আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য থামালেন, আর আমি ভেবেছিলাম কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু তিনি আমাকে তার পরে কিছু কথা বলাতে বললেন, আর ভেতরে ভেতরে খুব খারাপ লাগছিল। পরে আমি খুব অসুখী ছিলাম, যেন ওই শব্দগুলো বলে আমি কোনো ভয়ানক কাজ করে ফেলেছি, আর আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আরও, কয়েক মাস আগে, একটা মুহূর্ত এসেছিল যখন আমি ভেবেছিলাম ইসলাম আসলেই আমার জন্য ঠিক কিনা। আমি খ্রিস্টান ধর্ম নিয়ে কিছুক্ষণ ভেবেছিলাম, কিন্তু আমার গভীরের কিছু না বলে আমাকে ফিরিয়ে আনল। আমি জানি আমি ইসলাম ছেড়ে দিতে চাই না এবং আমি আমার দীনকে শক্তিশালী করতে চাই, কিন্তু আমি এতই হতবিহবল বোধ করছি। আমি সত্যিই পরিবর্তন হতে চাই এবং একজন ভালো মুসলিমা হতে চাই। কিন্তু নামাজ পড়তে গিয়েই যদি আমার এত কষ্ট হয়, তাহলে আমার জন্য কি কোনো আশা আছে? আমি এই ভয়ের মধ্যে আটকে আছি যে সবাই বলছে শেষ সময় আসন্ন, আর আমার এতটুকু সময় নেই যে আমি আন্তরিকভাবে তওবা করে সবকিছু বদলে ফেলতে পারি।