যখন ইচ্ছাগুলো নেতৃত্ব দিতে শুরু করে - একটা স্মরণিকা
আসসালামু আলাইকুম। কুরআন আমাদের কাছে একটি অদৃশ্য বিপদের কথা সতর্ক করে: যখন আমাদের নিজেদের চাহিদা আমাদের জন্য আল্লাহর মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। “তুমি কি দেখেছ, যে তার নিজের ইচ্ছাকে তার আল্লাহ বানিয়েছে?” (সুরা আল-জথিয়া ৪৫:২৩) এটা ভীতিকর, কারণ এটা শুধু অন্যদের ব্যাপারে নয় - এটা আমাদের কিছুর উপরেও ঘটে যেতে পারে। যখন আমাদের ইচ্ছে আল্লাহর নির্দেশনার চেয়ে আমাদের সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলে… যখন আকাঙ্ক্ষাগুলো আমাদের নীতির তুলনায় বেশি গুরুত্ব পায়… যখন আমরা জানি কী সঠিক কিন্তু আমরা যা ভালো লাগে সেটাকে বেছে নিই… যখন “আমি এটি করতে চাই” “আল্লাহ আদেশ করেছেন” শব্দগুলোকে চাপা দেয়… তখন হৃদয় সৃষ্টিকর্তার বাইরে কিছুতে মাথা নুয়ে দেয়। ঝুঁকি শুধু স্পষ্ট পাপেই নয়। অনেক সময় এটা সূক্ষ্ম: তুমি এমন এক জায়গায় যেতে থাকো যা তোমার ঈমানকে দুর্বল করে দেয় কারণ “মরে যাবো তো তাই” তুমি এমন একটা অভ্যাস ধরে রাখো যা তোমার নামাযের জন্য ক্ষতিকারক কারণ “এতে আমি আনন্দ পাই,” অথবা তুমি এমন একটা সম্পর্কের মধ্যে থাকো যে তোমাকে আল্লাহ থেকে দূরে টেনে নেয় কারণ তোমার হৃদয় ছাড়তে চায় না। আশা হলো যত তাড়াতাড়ি তুমি তোমার হৃদয়কে তার চাহিদা থেকে সরানোর জন্য পদক্ষেপ নাও, একটু হলেও, আল্লাহ তোমাকে শক্তিশালী ফিরে আনবে, যেভাবে তুমি একা ফিরতে পারবে না। আমরা চাইনা ইচ্ছাকে মুছে ফেলতে - এটা বাস্তবসম্মত নয়। লক্ষ্য হলো আমাদের ইচ্ছাগুলোকে আমাদের অনুসরণ করানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া, আমাদের তাদের অনুসরণ করা নয়। আল্লাহ আমাদের হৃদয়কে সঠিকভাবে পরিচালিত রাখতে সাহায্য করুন।