সীমার জ্ঞান: অবাধ মেলামেশার ব্যাপারে একান্ত উপলব্ধি
আসসালামু আলাইকুম। আমি বিশের শেষ দিকের একজন মুসলিম বোন, ছোটবেলা থেকেই ধর্ম পালন করে বড় হয়েছি এবং আলহামদুলিল্লাহ এখনও সেটা ধরে রেখেছি। আমি কখনোই “অবাধ মেলামেশার” পুরো ব্যাপারটা করিনি-শুধু মেয়েবন্ধু ছিল আর পশ্চিমেও মিশ্র পরিবেশ থেকে দূরে থাকতাম। তাই স্বাভাবিকভাবেই, আমার সামাজিক পরিমন্ডলে কোনো পুরুষ ছিল না। যখন আমি চাকরি শুরু করলাম, আমার অফিসও বেশিরভাগই মেয়েদের। সময়ের সাথে সাথে আমি যেন একধরনের ধারণায় পৌঁছে গেলাম যে “অবাধ মেলামেশা”র মতো বাক্যগুলো খুব কড়া, আর আমি পুরোপুরি আমাদের নিজস্ব বিচারবুদ্ধি ব্যবহারের পক্ষে ছিলাম, জানো তো? মুসলিমদের মেলামেশাকে আমি সমস্যা মনে করিনি কারণ আমার ধারণা ছিল, পুরুষ-মহিলা সম্মানের সাথে থাকতে পারে, কোনো অস্বস্তি ছাড়াই। তারপর একটা ঘটনা ঘটল যেন সব বুঝিয়ে দিল। অফিস-পরবর্তী এক মিলনায়তনে, আমি একটু যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম কারণ আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু সেখানে থেকে যাচ্ছিল। ভেবেছিলাম কিছুক্ষণ আড্ডা দেব। আমার সহকর্মীরা সত্যিই ভালো, মাশাআল্লাহ। মানুষ পড়তে আর সামাজিক ভাব বোঝাতে আমি বেশ পটু। আমরা যখন কথা বলছি আর হাসছি, আমি হঠাৎ ওখানকার গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করলাম। আমি আগেই জানতাম ওখানের দুই ছেলের আমার প্রতি একটু দুর্বলতা আছে (অহংকারী শোনাতে চাই না, ব্যাপারটা এমনই, আর একজন মুসলিমা হিসেবে আমি দূরত্ব বজায় রাখি ও সেটাকে প্রশ্রয় দিই না, যদিও তাদের একজনের প্রতি আমারও আকর্ষণ আছে। আমি কিছু নেই এমন ভাব করি আর তারাও পেশাদার থাকে, কিন্তু টের পাওয়া যায়)। আমার বন্ধু বিবাহিত হয়েও আরেক সহকর্মীর সাথে ফ্লার্ট করছিল। চারিদিকে আকর্ষণের নিচের স্রোত বইছিল। আর তখনই আমার মাথায় এল। এই কারণেই এটা হারাম। এটা মানুষের স্বভাবই। এসব মিশ্র পরিবেশে এটাই হয়-হয়তো প্রতিবার নয়, কিন্তু এটা স্বাভাবিক ফল। আর এটা হলো চাকরি, যেখানে মানুষ পেশাদার থাকার চেষ্টা করে। ভাবো তো বন্ধুদের আড্ডা বা পার্টির মতো আরও আরামদায়ক পরিবেশে পাপের দিকে পিছলে পড়া কত সহজ। বড় হওয়ার সময় আমাকে এটা শেখানো হয়েছিল, কিন্তু আমি তখনও সন্দিহান ছিলাম কারণ আমি সত্যিই বিশ্বাস করতাম মানুষ এসবের ঊর্ধ্বে উঠতে পারে, আর আমি জানতাম ব্যক্তিগতভাবে আমি কখনো সীমা লঙ্ঘন করিনি। কিন্তু তাতে কি মানুষের স্বভাবের বাস্তবতা বদলায়? না। শুরু থেকেই সীমারেখা ঠিক করে দেওয়া আসলেই কত যৌক্তিক, সুবহানআল্লাহ। এই উপলব্ধিতে আমি সত্যিই বিনীত হয়ে গেলাম, ভেবেছিলাম আমাদের জন্য কী ভালো সেটা আমি জানি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দিন।