শরিয়তের মাটিতে পিনজলের ফাঁদ: আচেহতে ছড়িয়ে পড়া অনলাইন ঋণের সংকটের ব্যবচ্ছেদ
আচেহ প্রদেশ, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামি শরিয়ত প্রয়োগ করা হয়, সেখানে অনলাইন ঋণের (পিনজল) এক সংকট চলছে। ওজেকে আচেহর তথ্য বলছে, নভেম্বর ২০২৪ থেকে মে ২০২৫ পর্যন্ত ১,৯৮৭টি অবৈধ আর্থিক অভিযোগ রেকর্ড করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই অবৈধ পিনজল সংক্রান্ত। মে ২০২৫-এ, অবৈধ পিনজলের ব্যাপারে ১৩৯টি অভিযোগ ছিল, যেখানে অভিযোগকারীদের বেশিরভাগই ছিলেন মায়েরা। ২০২৫ সালের মার্চে আচেহতে পিনজলের লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫৮ বিলিয়ন রুপিয়ায়। সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী হলেন শিক্ষক (৪২%), এরপর চাকরিচ্যুত (২০%), গৃহিণী (১৮%), এবং অন্যান্য।
এই ঘটনা একটি জাতীয় সংকটের অংশ, যেখানে ইন্দোনেশিয়ায় অপরিশোধিত অনলাইন ঋণের পরিমাণ ২০১৯ সালের ১৩.১৬ ট্রিলিয়ন রুপিয়া থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের মার্চে ১০১ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার উপরে পৌঁছেছে। ওজেকে তদারকি কঠোর করছে, হাজারো অবৈধ সত্তাকে ব্লক করছে, এবং সুদের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজর পড়েছে ‘ফিনফ্লুয়েন্সারদের’ ভূমিকার দিকে, যারা ঝুঁকি না বুঝিয়েই ঋণ নিতে উৎসাহিত করছেন।
অবৈধ পিনজলের কৌশলের মধ্যে আছে ওজেকের লাইসেন্স না থাকা, ব্যক্তিগত তথ্যে অতিরিক্ত প্রবেশাধিকার, অস্বচ্ছ সুদ, এবং ঋণ আদায়ের সময় হুমকি। আচেহর জন্য শরিয়াহ-সম্মত সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে আছে বৈধতা যাচাই, অবৈধ হলে সুদ পরিশোধ বন্ধ, এবং ইবাদত ও বাজেটের নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে আর্থিক পুনরুদ্ধার।
জনগণকে ক্ষতিকর ঋণের ফাঁদ থেকে বাঁচাতে আর্থিক শিক্ষা, আইন প্রয়োগ, এবং শরিয়াহ-সম্মত বিকল্প অর্থায়নের সমন্বয় ঘটানো প্রয়োজন।
https://www.harianaceh.co.id/2