রমজানের ১১টি আশীর্বাদ
আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় ভাই ও বোনেরা ইসলামে। রমজান একটি পবিত্র মাস, আর আমি এই পবিত্র সময়ে রোজা রাখার ১১টি সুবিধা নিয়ে তোমাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। **১) রোজা রাখলে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি**: কুরআন আমাদের বলে, 'হে আপনারা যারা বিশ্বাস করেছেন, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের আগে যারা ছিল তাদের উপর ফরজ করা হয়েছিল যাতে তোমরা ধার্মিক হতে পারো' (আল-বাকারাহ, ২:১৮৩)। রোজা রাখার সময় আমাদের মনোভাব পরিবর্তন করে ভালো মানসিক অবস্থায় থাকলে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি। **২) রোজা রাখা ব্যক্তিকে খাওয়ানোর জন্য দ্বিগুণ সওয়াব**: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি একজন রোজাদার ব্যক্তিকে খাওয়ায়, তার সওয়াব হবে রোজাদার ব্যক্তির মতো, তার সওয়াবে কোনো কমতি ছাড়া' (আল তিরমিজি)। **৩) রমজানে কুরআন পড়া তাকওয়া অর্জনে সাহায্য করে**: এই মাসে কুরআন পড়া তাকওয়া অর্জনে সাহায্য করে, কারণ কুরআনের অবতারণার প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। **৪) গুনাহের মাফ**: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সাথে এবং সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্বের গুনাহগুলো মাফ করা হবে' (আল-বুখারি, ২০১৪; মুসলিম, ৭৬০)। **৫) স্থিরতা ও ধৈর্য বৃদ্ধি**: রোজা রাখা আল্লাহর আনুগত্যে শক্তিশালী ইচ্ছাশক্তি ও ধৈর্য বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। **৬) লাইলাতুল কদর খোঁজা**: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, 'রমজান এসেছে, একটি পবিত্র মাস... যার সময় জান্নাতের দরজাগুলো খোলা হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ হয়' (আন-নাসাঈ, ২১০৬; আহমদ, ৮৭৬৯)। **৭) রোজা রাখা অর-রিয়াকে বাদ দেয় এবং ইখলাসে সাহায্য করে**: আল্লাহ বলেছেন, 'আদম সন্তানের প্রতিটি কাজ তার জন্য, কিন্তু রোজা আমার জন্য, আমি এর সওয়াব দেব' (আল-বুখারি, ১৭৬১, এবং মুসলিম, ১৯৪৬)। **৮) রমজান আমাদেরকে ভালো চরিত্র গড়ে তোলতে শেখায়**: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলা ও এর উপর কাজ করা এবং মূর্খতার আচরণ ছেড়ে না দেয়, আল্লাহর তার খাদ্য ও পানীয় ছেড়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই' (সহিহ আল-বুখারি, ১৯০৩)। **৯) মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যের অনুভূতি**: সমস্ত মুসলমান এই ইবাদতে অংশগ্রহণ করে, একই সময়ে রোজা রাখে এবং ইফতার করে। **১০) খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা**: রোজার একটি সুবিধা হল ভালো স্বাস্থ্য, যা আমাদেরকে আল্লাহর আরও ভালোভাবে ইবাদত করতে দেয়। **১১) দুটি আনন্দের মুহূর্ত**: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, 'রোজাদার ব্যক্তির দুটি আনন্দের মুহূর্ত থাকে: একটি যখন সে ইফতার করে, অপরটি যখন সে তার প্রভুর সাথে মিলিত হয়' (আল-বুখারি, ১৭৭১)। জাজাকুম আল্লাহু খাইরান পড়ার জন্য, আর আল্লাহ আমাদেরকে একটি পবিত্র রমজান দান করুক।